সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বন্ধ আছে রসুন আমদানি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলে বেড়েছে পণ্যটির দাম। গতকাল সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের কয়েকটি মসলা বিপণন প্রতিষ্ঠান ও আড়তে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
সাতক্ষীরায় এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি রসুনের দাম ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সুলতানপুর বড় বাজারের মসলাপণ্য বিক্রি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরদার স্টোরে গতকাল দেশী রসুন বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৪০ টাকা দরে। এ সময় আমদানীকৃত রসুনের দাম ছিল কেজিতে ২২০ টাকা। এক মাস আগেও প্রতিষ্ঠানটিতে দেশী রসুন কেজিতে ২০০-২১০ টাকা ও আমদানীকৃত রসুন ১৯০-১৯৫ কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল হাকিম জানান, অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশে রসুনের বাজার অন্তত ৪০-৫০ শতাংশ আমদানিনির্ভর। ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি কমায় রসুনের দাম বেড়েছে।
সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বণিক বার্তাকে জানান, বাজারে দেশী রসুন সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা ও আমদানীকৃত রসুন ২২০-২৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন রসুনের সরবরাহ না আসা পর্যন্ত দাম ঊর্ধ্বমুখীই থাকতে পারে।
এদিকে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে রসুন আমদানি হয়েছিল ১৩ হাজার ১৭১ টন, যার আমদানি মূল্য ২০৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। তবে চলতি (২০২৪-২৫) অর্থবছরের এ পর্যন্ত কোনো রসুন আমদানি হয়নি।
ভোমরা বন্দরের অন্যতম কৃষিপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সনসের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার জানান, চলতি অর্থবছর ভারতের বাজারে রসুনের দাম বেড়েছে। লোকসান এড়াতে ব্যবসায়ীরা পণ্যটির আমদানি বন্ধ রেখেছেন।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ২ হাজার ১০০ টন রসুন উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে জেলায় ৩০০ হেক্টর পরিমাণ জমিতে ফসলটি চাষ করা হয়েছে, যা গত মৌসুমের তুলনায় প্রায় ৫০ হেক্টর পরিমাণ বেশি আবাদ হয়েছে।